সরাসরি মূল বিষয়ে যান
খাড়া পাহাড়ের ঢালে থরে থরে সাজানো শিমলার বাড়িঘর

শিমলা ও আশপাশের দর্শনীয় স্থান

ষোলোটি জায়গা, যা শিমলা ও তার পাহাড়কে ভারতের অন্যতম সেরা পাহাড়ি অবকাশে পরিণত করেছে।

শিমলার দর্শনীয় স্থানগুলো তিন ভাগে পড়ে: খোদ শহর — রিজ ও ম্যাল, ক্রাইস্ট চার্চ, জাখু, ভাইসরিগাল লজ, গেইটি আর টয় ট্রেন; চারপাশের পাহাড়ে দিনের সফর — কুফরির বরফ থেকে চৈলের প্রাসাদ আর তত্তাপানির উষ্ণ প্রস্রবণ; আর ওপারের পথ — নারকান্ডা, কিন্নৌর, স্পিতি ও মানালি। নিচে প্রতিটির আলাদা গাইড আছে — কী দেখবেন, কীভাবে যাবেন আর কোন ট্যুরে তা ধরা আছে।

শিমলা শহর

শিমলার রিজ — কারুকাজ করা ল্যাম্পপোস্ট, পর্যটক আর পেছনে পাহাড়ের ঢালে ছড়ানো শহর শিমলা শহর

রিজ ও ম্যাল রোড

পাহাড়ের রানির খোলা বৈঠকখানা

শহরের শিরদাঁড়া বরাবর চওড়া, গাড়িহীন বিচরণপথ আর তার নিচে বাঁক নেওয়া কেনাকাটার রাস্তা। স্ক্যান্ডাল পয়েন্ট, টাউন হল, গেইটি থিয়েটার, লক্কড় বাজার আর শিমলার সেরা পাহাড়ি দৃশ্য — সবই কয়েক মিনিটের হাঁটাপথে।

গাঢ় নীল আকাশের পটভূমিতে শিমলার ক্রাইস্ট চার্চের নিও-গথিক মিনার শিমলা শহর

ক্রাইস্ট চার্চ

রিজের ওপর হালকা হলুদ রঙের প্রতীক

১৮৫৭ সালে সম্পূর্ণ এই নিও-গথিক গির্জা উত্তর ভারতের প্রাচীনতম গির্জাগুলোর একটি, আর শিমলার যে ছবিটা সবাই সঙ্গে নিয়ে যান। ভেতরে রঙিন কাচের সুন্দর জানালা আর ব্রিটিশ আমলের পিতলের স্মৃতিফলক।

গাছের মাথা ছাড়িয়ে ওঠা জাখু মন্দিরের বিশাল হনুমান মূর্তি শিমলা শহর

জাখু মন্দির

হনুমানের পাহাড়চূড়া, শহরের সবচেয়ে উঁচু বিন্দু

প্রায় ২,৪৫০ মিটার উঁচু জাখু পাহাড়ের চূড়ায় হনুমানের প্রাচীন মন্দির, যার মাথায় ২০১০ সাল থেকে দাঁড়িয়ে হনুমানের বিশাল কমলা মূর্তি — শিমলার প্রায় সব জায়গা থেকে দেখা যায়। দেওদার বনের ভেতর দিয়ে হেঁটে উঠুন বা রোপওয়ে নিন — আর বানর থেকে সাবধান।

শিমলার ভাইসরিগাল লজ — মিনার আর চওড়া লনসহ ধূসর পাথরের প্রাসাদ শিমলা শহর

ভাইসরিগাল লজ

যেখান থেকে ব্রিটিশরা প্রতি গ্রীষ্মে ভারত শাসন করত

১৮৮৮ সালে ভারতের ভাইসরয়দের জন্য তৈরি ধূসর পাথরের জ্যাকোবেথান প্রাসাদ, ১৯৪৫-এর সিমলা সম্মেলনের সাক্ষী, আজ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডি। গাইডেড ট্যুরে সেগুন কাঠে মোড়া হলঘর দেখানো হয়, আর লন থেকে পাহাড়ের দৃশ্য।

শিমলার ম্যালে পাথর ও কাঠের কাঠামোর গেইটি থিয়েটার ভবন শিমলা শহর

গেইটি থিয়েটার

ম্যালের ওপর এক ভিক্টোরীয় নাট্যশালা

১৮৮৭ সালে টাউন হল কমপ্লেক্সের অংশ হিসেবে চালু গেইটি এশিয়ার হাতে-গোনা টিকে থাকা ভিক্টোরীয় থিয়েটারগুলোর একটি। সংস্কারের পর এখনও সচল — নাটক, প্রদর্শনী আর ছোট্ট মণিমুক্তোর মতো প্রেক্ষাগৃহের সংক্ষিপ্ত গাইডেড সফর।

পাহাড়ি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে স্টেশন-ভবনের পাশে দাঁড়ানো কালকা–শিমলা টয় ট্রেন শিমলা শহর

কালকা–শিমলা টয় ট্রেন

শতাধিক সুড়ঙ্গ পেরিয়ে ইউনেস্কোর ন্যারো-গেজ চড়াই

পাহাড়ের পাদদেশের কালকা থেকে শিমলা পর্যন্ত ৯৬ কিমি ন্যারো-গেজ রেলপথ, চালু ১৯০৩ সালে, ভারতের পার্বত্য রেলপথ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। যাত্রা প্রায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টার — শত শত সেতু আর শতাধিক সুড়ঙ্গ।

শিমলা থেকে ডে-ট্রিপ

কুফরিতে পাইন বনের মাঝে ফাঁকা জায়গা আর দূরে নীল পাহাড় শিমলা থেকে ডে-ট্রিপ

কুফরি

বরফ, ইয়াক আর টাট্টু — শহর থেকে আধঘণ্টা

শিমলা থেকে প্রায় ১৬ কিমি পূর্বে এক উঁচু শৈলশিরা, যেখানে পর্যটকেরা শীতে প্রথমবার বরফ ছুঁতে আর গ্রীষ্মে টাট্টুর পিঠে ভিউপয়েন্টে যেতে আসেন। ভিড় আর বাণিজ্যিকতা আছে, তবে হিমালয়ান নেচার পার্ক আর তুষারশৃঙ্গের দৃশ্য সত্যিই দেখার মতো।

বনাচ্ছাদিত পাহাড়ের নিচে মাশোবরার ধাপচাষের খেত ও ঢালের বাড়িঘর শিমলা থেকে ডে-ট্রিপ

মাশোবরা

বাগিচা আর দেওদার বন — শিমলার নিরিবিলি দিক

রিজ থেকে প্রায় ১২ কিমি দূরে সবুজ, শান্ত গ্রাম, আপেল বাগান আর ঘন বনে ঘেরা। এখানে রাষ্ট্রপতির গ্রীষ্মকালীন আবাস আর অঞ্চলের কয়েকটি সেরা রিসর্ট — ভিড় থেকে দূরে হাঁটার আদর্শ ঘাঁটি।

নালদেহরার গলফ কোর্স — উঁচু দেওদারে ঘেরা রোদে ভেজা মাঠ শিমলা থেকে ডে-ট্রিপ

নালদেহরা

দেওদারের মাঝে পাহাড়চূড়ার গলফ কোর্স

শিমলা থেকে প্রায় ২২ কিমি উত্তরে বিশাল দেওদারে ঘেরা এক তৃণভূমি, ভারতের প্রাচীনতম গলফ কোর্সগুলোর একটির জন্য বিখ্যাত — শোনা যায়, লর্ড কার্জনের ইচ্ছায় তৈরি। বন, ঘোড়সওয়ারি আর নিচে শতদ্রু উপত্যকার দৃশ্যের জন্য আসুন।

লন আর উঁচু দেওদারের পেছনে সবুজ ছাদের চৈল প্যালেস শিমলা থেকে ডে-ট্রিপ

চৈল

শিমলার জবাবে এক মহারাজার শহর

পাতিয়ালার মহারাজা ১৮৯০-এর দশকে গড়েছিলেন এই গ্রীষ্মকালীন রাজধানী, শিমলা থেকে প্রায় ৪৫ কিমি দূরে। প্রাসাদটি এখন হেরিটেজ হোটেল, আছে বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম ক্রিকেট মাঠ, আর চারপাশের বন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।

তত্তাপানিতে শতদ্রু নদী, ঝুলন্ত সেতু আর তীরের বাড়িঘর শিমলা থেকে ডে-ট্রিপ

তত্তাপানি

শতদ্রুর তীরে উষ্ণ প্রস্রবণ

শিমলা থেকে প্রায় ৫০ কিমি দূরে নদীতীরের ছোট শহর, যেখানে শতদ্রুর পাশে গন্ধকযুক্ত উষ্ণ প্রস্রবণ ওঠে। নালদেহরা হয়ে রাস্তা ১,৩০০ মিটারেরও বেশি নেমে আসে, তাই এখানে বেশ গরম — শীতের প্রিয় ডে-ট্রিপ।

ফাগুতে বন আর ধাপকাটা ঢালের মাঝ দিয়ে পাহাড়ি রাস্তা শিমলা থেকে ডে-ট্রিপ

ফাগু

কুফরি পেরিয়ে বড় দৃশ্যের শান্ত শৈলশিরা

শিমলা থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে, প্রায় ২,৫০০ মিটার উচ্চতায় হাইওয়ের ধারে ছোট্ট গ্রাম — আলুর খেত, আপেল বাগান আর উপত্যকার খোলা দৃশ্য। ব্যস্ত কুফরির শান্ত বিকল্প, অল্প কিছু হোটেল ও হোমস্টেসহ।

নীল আকাশের নিচে পাথরের চাতালে খোদাই-করা কাঠের তারা দেবী মন্দির শিমলা থেকে ডে-ট্রিপ

তারা দেবী মন্দির

কালকা সড়কের ওপরে পাহাড়চূড়ায় দেবীর ধাম

শিমলা থেকে প্রায় ১১ কিমি দূরে বনঢাকা পাহাড়চূড়ায় দেবী তারার প্রিয় মন্দির, প্রথাগত পাহাড়ি ধাঁচে খোদাই-করা কাঠে নতুন করে গড়া। ওঠার রাস্তা খাড়া, আর শিমলার পাহাড়ের দৃশ্য অসাধারণ।

হিমালয়ের আরও গভীরে

বরফঢাকা ঢালে পাইন গাছের মাঝে ছড়ানো নারকান্ডার বাড়িঘর হিমালয়ের আরও গভীরে

নারকান্ডা ও হাটু পিক

শরতে আপেল, শীতে স্কিইং

পুরোনো হিন্দুস্তান–তিব্বত সড়কে শিমলা থেকে প্রায় ৬৫ কিমি দূরে, প্রায় ২,৭০০ মিটারে এক পাহাড়ি শহর। গাড়িতে বা হেঁটে হাটু পিক আর তার কাঠের মন্দিরে উঠুন তুষারশ্রেণির বিশাল প্যানোরামার জন্য; ভালো বরফের বছরে এর ঢালে শিক্ষানবিশদের স্কিইং হয়।

কল্পা থেকে দেখা কিন্নর কৈলাস পর্বতশ্রেণি, সামনে প্রার্থনা-পতাকা হিমালয়ের আরও গভীরে

কিন্নৌর ও স্পিতি

শিমলা থেকে পূর্বমুখী মহাসড়ক-যাত্রা

নারকান্ডার পরে হাইওয়ে শতদ্রুর পাশ দিয়ে কিন্নৌরের গভীরে যায় — সারাহান, সাংলা, চিটকুল আর কিন্নর কৈলাসের নিচে কল্পা — তারপর স্পিতির উচ্চ শীতল মরুভূমিতে। কয়েক দিনের যাত্রা, সেরা সময় মে থেকে অক্টোবর।

বনে ঢাকা পাহাড়ের নিচে ছড়িয়ে থাকা মানালির উপত্যকা ও শহর হিমালয়ের আরও গভীরে

মানালি

হিমাচলের আরেক বিখ্যাত শৈলশহর

শিমলা থেকে প্রায় ২৫০ কিমি উত্তরে কুল্লু উপত্যকার মাথায় মানালি — সোলাং, অটল টানেল আর লাহৌলের প্রবেশদ্বার। অনেকে মান্ডি ও কুল্লু হয়ে দুই শহর এক সফরেই জুড়ে নেন।

চার দিনের একটি যুক্তিসঙ্গত পরিকল্পনা: প্রথম দিন, টয় ট্রেন বা সড়কপথে পৌঁছে সূর্যাস্তের সময় ম্যাল ও রিজে হাঁটুন। দ্বিতীয় দিন, সকালে জাখু, বিকেলে ভাইসরিগাল লজ ও স্টেট মিউজিয়াম। তৃতীয় দিন, কুফরি ও ফাগু, অথবা মাশোবরা ও নালদেহরা। চতুর্থ দিন, চৈল — কিংবা রাত কাটাতে এগিয়ে যান নারকান্ডায়।
পাহাড়ে আপনার দিনগুলোর পরিকল্পনা

ঔপনিবেশিক গলি, ইউনেস্কোর রেলপথ আর হিমালয়ের দৃশ্য — এক সফরে

গল্প-বলা গাইডের সঙ্গে রিজে হাঁটুন, সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে টয় ট্রেনে চড়ুন, জাখু পাহাড়ে উঠুন, তারপর কুফরি, মাশোবরা বা তত্তাপানি ঘুরে আসুন। গাইডেড ট্যুর ও ডে-ট্রিপ তুলনা করে কয়েক ক্লিকেই বুক করুন।